স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান চলাচল শিল্প বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা।
শনিবার রাজধানীর বনানীতে স্যামসন সেন্টারে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)-এর ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এওএবির সভাপতি ও স্কয়ার এয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমানে এভিয়েশন শিল্প একটি কঠিন পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় সকল অংশীজনের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া খাতটিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
এওএবির মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান খাতের উপর চাপ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি জেট জ্বালানির অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য, হ্যাঙ্গার ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি, কাস্টমস জটিলতা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নির্ধারিত বিভিন্ন চার্জকে বেসরকারি অপারেটরদের জন্য প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সভায় বক্তারা দেশের এভিয়েশন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে কার্যকর আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় গড়ে তোলার উপর বিশেষ জোর দেন।
এছাড়া, সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ‘বাংলাদেশ গেজেট’-এ প্রকাশিত বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় এওএবির ভাইস চেয়ারম্যান-২ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ ও ইমপ্রেস এভিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেড মাহমুদ মামুন, যুগ্ম সচিব আব্দুল্লাহ আল জাহির স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল কবিরসহ মেঘনা এভিয়েশন, বসুন্ধরা এয়ার ওয়েজ, স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটি আশা করছে, সরকারের যথাযথ হস্তক্ষেপ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় বেসরকারি এভিয়েশন খাত দ্রুত সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।
