ঢাকা, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ :
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ম্যানেজার শাহনাজ বেগমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দলীয় পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ক্রুরা। তারা দাবি করছেন, তার একক কর্তৃত্ব ও অনিয়মের কারণে বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্রুদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ক্রু সময়ের আলোকে বলেন, চলতি বছরের ২৯ মার্চ তাকে ম্যানেজার ফ্লাইট সার্ভিস হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ম্যানেজার প্ল্যানিং/শিডিউলিং পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়েও তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। নিজের ঘনিষ্ঠ ক্রুদের ভালো ফ্লাইট দেওয়ার জন্য এবং বেশি ফ্লাইট আওয়ার্স নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত রোস্টার উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো ফ্লাইট বণ্টন করতেন। এতে করে অন্যান্য ক্রুরা বঞ্চিত হতেন। কেউ এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে অফিসে ডেকে হয়রানি করা হতো, এখনো করা হয়। এছাড়া, ভিভিআইপি ফ্লাইটের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বেও তার ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত ক্রুদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভালো এবং দীর্ঘ ফ্লাইটের শিডিউল পাওয়ার জন্য ( বিশেষ করে নারী ক্রুদের ক্ষেত্রে) তাকে আর্থিকভাবে খুশি করা ওপেন সিক্রেট বলেও দাবি করেন একাধিক ক্রু।
জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল বিজি-৩৫৫ ঢাকা-রোম ফ্লাইটে সিপি শাহনাজ এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেপি আরিয়ান সি-চেকে থাকা একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ রিসিভ করতে যান। সাধারণত এ ধরনের দায়িত্ব পালনে একজন চিফ পার্সার বা ফ্লাইট পার্সার এবং একজন ফ্লাইট স্টুয়ার্ড বা স্টুয়ার্ডেস অংশ নেন। ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগে বর্তমানে তিনিই একমাত্র ম্যানেজার। ফলে তার অনুপস্থিতিতে জরুরি কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। কোনো ম্যানেজার তার দাফতরিক দায়িত্ব ফেলে রেখে এ ধরনের ফ্লাইটে যাওয়ার নজির নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিষয়টি তার স্বেচ্ছাচারিতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে বিমান সূত্র জানিয়েছে, শাহনাজের মাসে ২টা ফ্লাইট করলেই হয়। তার মাসে ৩৫ ঘণ্টা উড্ডয়ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি বস হওয়ায় নিজের সুবিধামতো সবসময় ভালো ফ্লাইট শিডিউল নেন।
জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তিনি তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য ক্রুদের টপকে এ পদে আসীন হয়েছেন। এমনকি ব্যবস্থাপক পদে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতাও তার নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সিনিয়র ক্রু জানান, শাহনাজ বেগম যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে মামলার ২০৪ নম্বর আসামী। তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য। এরপরও তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট শিডিউল বণ্টনের ক্ষেত্রে তার কাছের এবং দলের লোকজনকেই প্রাধান্য দেন। এছাড়া, অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে আগামী বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু তার আইডি কার্ডের মেয়াদ তার অবসর গ্রহণের তারিখের চেয়েও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিয়মে হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
