মাদারীপুর (শিবচর):
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা লিটন চৌধুরীর বাবা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চলুন দর্শক জেনে আসি কে এই নাদিরা আক্তার? ক্ষমতার লোভে গিরগিরিটির মতো রং বদলানো এই সুযোগসন্ধানী নারী কিভাবে আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে গেলেন তিনি সেই প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, শিবচরের দত্তপাড়া এলাকায় কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন নাদিরা আক্তার, যাকে কেউ কেউ নাদিরা মিঠু চৌধুরী নামেও চেনেন। এ সিদ্ধান্তে বিএনপির একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, এতে দলীয় অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তৃণমূল বিএনপি নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ পরিবারের সঙ্গে এই প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা দলের আদর্শ ও নীতি পরিপন্থী। তারা বলেন, “এই পদক্ষেপ দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে এবং প্রচারণা কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা কমিয়েছে।”
বিএনপির একাংশের নেতাদের বক্তব্য, নাদিরা আক্তার ভবিষ্যতে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করতেও দ্বিধা করবেন না—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জনসমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ অবস্থায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার ‘জাহাজ’প্রতীকে সমর্থন জানিয়েছেন। এমন ক্ষমতালোভী, সুযোগসন্ধানী ও আদর্শচ্যুত রাজনীতিক বেঈমানকে বিএনপির হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চাননা বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে নাদিরা আক্তারের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, “ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নাদিরা আক্তার বাগিয়ে নিয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন। কারণ তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে এমনকি জুলাই আন্দোলনেও তার দৃশ্যমান ভূমিকা আমরা দেখিনি। নির্বাচনের সময় এসে হঠাৎ মনোনয়ন পাওয়ায় কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
তারা আরও বলেন, মরহুম স্বামী শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরীর পরিচয় ও কেন্দ্রীয় যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন—এমন ধারণা এলাকায় আলোচনায় রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির ভেতরে দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন ভোটার বলেন, “ক্ষমতা মানুষের চরিত্রকে উন্মোচন করে। রাজনীতিতে নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার জন্য যদি আদর্শের সঙ্গে আপস করা হয়, তাহলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।”
অন্যদিকে, নাদিরা আক্তারের সঙ্গে লিটন চৌধুরীর সম্পর্ক স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, লিটন চৌধুরীর রাজনৈতিক এই অবস্থান আওয়ামী লীগের আর্দশের পরিপন্থী । লিটন চৌধুরীর শিবচরে নিজের অবৈধ আদিপত্যের সাম্রাজ্য চালু রাখতে বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে নিজের সুবিধার সুবিধার জন্য প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন।
নাদিরা আক্তার শিবচরে জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচনে নমিনেশন বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয়ে লিটন চৌধুরীর সাথে যোগ দিয়ে নিজের জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অবস্থান পরিবর্তনকারী প্রার্থীদের প্রতি জনগণের আস্থা কম। এই অবস্থান পরিবর্তন বলে দিচ্ছে নির্বাচনী মাঠে পার্থীর অবস্থান কেমন?
এদিকে ক্ষুব্ধ বিএনপির একটি অংশ প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। তাদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য বিকল্প নেতৃত্ব প্রয়োজন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও নাদিরা আক্তারের কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না বলে দাবি করা হয়েছে। তারা বলছেন, “এলাকার মানুষ এখন সচেতন। যাকে দিয়ে বাস্তব উন্নয়ন হবে, তাকেই ভোট দেবে।”
সরেজমিনে শিবচরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে নির্বাচনী দৌড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ‘জাহাজ’প্রতীক নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ইসলামী জোট মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হানজালা দ্বিতীয় অবস্থানে এবং বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন—এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
